২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। BABU88-এর পাঠকদের জন্য আমরা এই সিরিজের পেছনের রোমাঞ্চকর গল্প ও কৌশলগত বাঁকগুলোর একটি গভীর বিশ্লেষণ নিয়ে এসেছি। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের দাপট থেকে শুরু করে পরের দুই টেস্টে পাকিস্তানের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন—এই সিরিজটি পদে পদে প্রমাণ করেছে যে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই সিরিজের ৪টি উল্লেখযোগ্য দিক, যা ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
মুলতান এবং রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে বিশ্বকে চমকে দেয়। ৭ থেকে ১১ অক্টোবর মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। কিন্তু শান মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তান দল হতাশ হয়নি। তারা তাদের কৌশল পুনর্গঠন করে এবং ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবরের দ্বিতীয় টেস্টে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। এরপর ২৪-২৮ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ম্যাচে নিজেদের মাঠে স্পিনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তারা সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।
এই সিরিজের অন্যতম বড় চমক ছিল স্পিনার সাজিদ খানের জাদুকরী পারফরম্যান্স। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে তিনি একাই বেশ কয়েকবার খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছেন। পিচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি যেভাবে ইংলিশ ব্যাটারদের বোকা বানিয়েছেন, তা ছিল দেখার মতো। এই অসাধারণ ধারাবাহিক বোলিংয়ের কারণেই সাজিদ খান заслуিতভাবে 'প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ' খেতাব অর্জন করেন, যা পাকিস্তানের জয়ে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
টেস্ট সিরিজের আগে মে মাসে ইংল্যান্ডের মাটিতে দুই দলের মধ্যে ৪ ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি (T20I) সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে জস বাটলারের ইংল্যান্ড বাবর আজমের পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল, যার মধ্যে দুটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। হেডিংলি, এজবাস্টন এবং দ্য ওভালে ইংলিশ পেসারদের সামনে পাকিস্তানের সেই সংগ্রাম অনেকের মনেই শঙ্কার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু অক্টোবরের এই টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান সেই টি-টোয়েন্টির হতাশা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠে এবং প্রমাণ করে যে দীর্ঘ ফরম্যাটের খেলায় তারা কতটা ধৈর্যশীল।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান সফরে এসে ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছিল। সেই হোয়াইটওয়াশের স্মৃতি পাকিস্তানের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। এবারের সিরিজটি তাই দলটির জন্য অনেকটা নিজেদের হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার লড়াই ছিল। নিজেদের চেনা কন্ডিশনে ইংলিশ আগ্রাসনকে রুখে দিয়ে এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তানের শক্তিমত্তার একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করেছে।
২০২৪ সালের ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান টেস্ট সিরিজে চূড়ান্ত বিজয়ী কে হয়েছিল?
২০২৪ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
সিরিজে কার পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে?
পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খান তার অনবদ্য বোলিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পুরো সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং 'প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ' নির্বাচিত হন।
ম্যাচগুলো কোন কোন ভেন্যুতে খেলা হয়েছিল?
সিরিজের প্রথম দুটি টেস্ট ম্যাচ পাকিস্তানের মুলতান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।